সম্প্রতি 'New Scientist' ম্যাগাজিনের একটি প্রতিবেদনে বিটকয়েনকে "পরিবেশের জন্য এক বিশাল বিপর্যয়" হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, বিটকয়েন মাইনিংয়ে প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ হয়, এটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহায়ক এবং এটি একটি বাজে বিনিয়োগ। এমনকি প্রতিবেদক লিয়া ক্রেন বিটকয়েন কেনার চেয়ে "পোকেমন কার্ড" কেনাকে ভালো বলে মন্তব্য করেছেন।
তবে এই একতরফা দাবির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ক্রিপ্টো কমিউনিটি। বিশেষজ্ঞ এবং গবেষকদের মতে, নিউ সায়েন্টিস্টের এই প্রতিবেদনটি পুরনো এবং ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
বিতর্কের মূল পয়েন্টগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. এনার্জি সোর্সিং (Energy Sourcing):
জলবায়ু গবেষক ড্যানিয়েল ব্যাটেনের মতে, বিটকয়েন মাইনিংয়ের বর্তমান অনুমানের তুলনায় ৫০%-এর বেশি এখন টেকসই এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি (Renewable Energy) ব্যবহার করে করা হচ্ছে।
২. ক্লিন মাইনিং মডেল:
'Terawulf (WULF)' এর মতো অনেক কোম্পানি এখন বাতাস, সৌর এবং জলবিদ্যুতের মাধ্যমে কার্বন-মুক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বিটকয়েন মাইনিং করছে। এমনকি 'Crusoe Energy Systems' তেল ক্ষেত্র থেকে নষ্ট হওয়া প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে, যা মিথেন নির্গমন কমাতে সাহায্য করে।
৩. বিটকয়েনের উপযোগিতা:
অ্যালেক্স গ্ল্যাডস্টেইন এবং অন্যান্য সমর্থকরা বলছেন, বিটকয়েন শুধু একটি ডিজিটাল মুদ্রা নয়। যেসব দেশে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি বা ব্যাংকিং সেবায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেখানে এটি মানুষের জন্য বড় আশীর্বাদ।
মার্কেট আপডেট:
এই খবরের মাঝে বিটকয়েন (BTC) প্রায় ৮৮,৯৩২ ডলারের আশেপাশে ট্রেড করছে। যদিও সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা 'Bearish' বা নেতিবাচক সেন্টিমেন্ট দেখা যাচ্ছে, তবুও টেকসই মাইনিং বিটকয়েনের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করছে।
উপসংহার:
বিটকয়েন শুধু বিদ্যুৎ খরচ করে না, বরং বিশ্বজুড়ে ক্লিন এনার্জি ব্যবহারের নতুন মডেল তৈরি করছে। পরিবেশগত এই বিতর্ক বিটকয়েনের গ্রহণযোগ্যতাকে চ্যালেঞ্জ করলেও, সঠিক তথ্যগুলো সামনে আসা জরুরি।
#BTC #BitcoinMining #Sustainability #CryptoHunter # #GreenCrypto